বাংলাদেশে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের পরিমাণ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। সেইসাথে বাড়ছে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচও। সরকার সম্প্রতি গাড়ির ট্যাক্স বৃদ্ধি ও ট্যাক্স দেওয়ার নিয়মও পরিবর্তন করেছে। এতে করে পূর্বের নিয়মে ট্যাক্স দেওয়া যাবে না।
নতুন নিয়মে ট্যাক্স টোকেন কিভাবে নিতে হয়? কোন গাড়ির কত ট্যাক্স? তা অনেকেই জানেন না।আগের নিয়মে ট্যাক্স টোকেন নিতে হলে অনেক সময় ঝামেলা পোহাতে হত।কিন্তু নতুন নিয়মে ট্যাক্সের হার বাড়লেও ঝামেলা কমে গেছে।ডিজিটালি এখন ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করা যায়।
কোন নতুন গাড়ি কেনার পর সেটির রেজিস্ট্রেশন করা যেমন জরুরি তেমনি ট্যাক্স দেয়াও জরুরি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন দু বছর পরপর গাড়ির ফিটনেস নবায়ন করতে হয় তবে এই ট্যাক্স দিতে হবে প্রতিবছর । যেহেতু এবারের বাজেটে বিলাসবহুল পন্যের আয়কর বাড়ানো হয়েছে সেহেতু গাড়ির ট্যাক্সও বাড়বে। তবে নতুন নিয়মে গাড়ির ট্যাক্স অগ্রিম দিতে হবে।
আর গাড়ির ট্যাক্স কত হবে তাও নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। যারা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন তাদের অবশ্যই ট্যাক্স টোকেন নেওয়ার নিয়ম এবং কোন গাড়ির জন্য কত ট্যাক্স নির্ধারিত হয়েছে তা জেনে রাখা ভালো। আজকে এসব বিষয় নিয়েই লিখব।
ট্যাক্স টোকেন কি?
গাড়ি ব্যবহার করলে প্রতিবছর সরকারকে গাড়ির ব্যবহার বাবদ অগ্রিম একটা নির্দিষ্ট ফি দিতে হয়। এটাকে গাড়ির ট্যাক্স বলে।আর এ গাড়ি বা মোটরযানের উপর আরোপিত ট্যাক্স বা কর পরিশোধের পর কর আদায়কারী কর্মচারী বা অনুমোদিত কোনো কর্মচারী কর্তৃক কর পরিশোধকারীকে প্রদত্ত টোকেন বা কার্ড বা সনদকে ট্যাক্স টোকেন বলে।
কিভাবে ট্যাক্স টোকেন নিব?
যারা ব্যাক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে তাদের জন্য ট্যাক্স টোকেন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গাড়ি কেনার সাথে সাথে সেটা যেন রাস্তায় চালাতে গিয়ে কোন আইনি ঝামেলায় না পড়ে এজন্য ট্যাক্স টোকেন নেওয়া দরকার।কিন্তু এ কাজটি কিছুটা কঠিন। তাই এ বিষয়ে গাড়ির মালিককে অবশ্যই সঠিক ধারণা রাখতে হবে।
গাড়ি কেনার পর তা রেজিস্ট্রেশনসহ যাবতীয় আইনি কাজ সম্পন্ন করার মধ্যে ট্যাক্স টোকেন একটি। প্রথমবার গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের সময় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ আপনাকে ট্যাক্স টোকেনের মূল সনদ ইস্যু করবে।পরবর্তীতে বার বার ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করার সময় নির্ধারিত ফিসহ এ সনদটি দেখাতে হবে।
একটা সময় বিআরটিএ’র সার্কেল অফিসে গিয়ে গাড়ির সব কাগজপত্রসহ ফি জমার রশিদ লিখিয়ে আনতে হত।এরপর ফি জমা দিতে যেতে হত ডাকঘরে। ডাকঘর থেকে এসে আবার বিআরটিএ’ র সার্কেল অফিসে সেই রশিদ ও গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে জমা দিতে হত।সব ঠিকঠাক থাকলে ট্যাক্স টোকেন নবায়ন হত।কিন্তু বিআরটিএ’র সব কাজ অনলাইন হয়ে যাওয়ায় এখন ট্যাক্স পরিশোধ করতে অফিসে বা ডাকঘরে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ঝক্কি পোহাতে হয় না। মূল ট্যাক্স টোকেন কপি ও নির্ধারিত ফি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিলে দ্রুত ব্যাংকের শাখা থেকেই নবায়নকৃত ট্যাক্স টোকেন কপি পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ঘরে বসেও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিআরটিএ’র ওয়েবসাইটে ইউজার হিসেবে সাইন আপ করে ট্যাক্স টোকেন ফি পরিশোধ করা যায়।
তাহলে দেখা যাচ্ছে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করার সাথেই ট্যাক্স টোকেন পাওয়া যায়। তবে যেহেতু প্রতিবছর ট্যাক্স দিতে হয় সেজন্য প্রতিবার ফি পরিশোধ করে ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করা যায়।
ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করতে কি কি লাগবে?
- গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের সময় ১ম ট্যাক্স টোকেন বিআরটিএ কর্তৃক ইস্যু করা হয়।
- পরবর্তীতে বিআরটিএ’র মাধ্যমে ফি গ্রহণের কাজে নিয়োজিত ব্যাংক বা অনলাইনে নির্ধারিত ফি প্রদানস্বাপেক্ষে ব্যাংক হতে ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করা যায়। অবশ্য বিকাশের মাধ্যমে ফি প্রদান করা হলে নবায়নকৃত ট্যাক্স টোকেন কপি গ্রাহকের প্রদত্ত ঠিকানায় কুরিয়ারের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয় ।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- বিআরটিএ কর্তৃক পূর্বের ইস্যুকৃত ট্যাক্স টোকেন সার্টিফিকেট (মূল কপি)।
- ক্ষেত্রবিশেষে টিন সার্টিফিকেট ও গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র লাগতে পারে।
- সাথে ফি হিসেবে গাড়ির ধরণ অনুযায়ী টাকা।যেমন যেসব ব্যক্তিগত গাড়ির আসন সংখ্যা ৪ এর মধ্যে তার জন্য ৫,০০০/- টাকা ফি এবং সাথে ১৫% ভ্যাট জমা দিতে হবে।এক্ষেত্রে মোট ৫,৮০২ টাকা হয়।
তবে অনেক সময় ট্যাক্স টোকেন পরিশোধের সময় পার হয়ে গেলে বা নির্ধারিত সময়ে দেওয়া না হলে জরিমানা করা হয়। তখন ব্যাংক থেকে জরিমানার পরিমাণ জেনে নিয়ে মূল ট্যাক্সের সাথে জরিমানার টাকাও পরিশোধ করতে হয়।
কোন গাড়ির ট্যাক্স টোকেন নবায়ন ফি কতো?
বাংলাদেশে ব্যাক্তিগত ব্যবহারের জন্য নানা ধরণের বিভিন্ন ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি রয়েছে। গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষমতা বিবেচনা করে গাড়ির উপর ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়। গাড়ির এ ইঞ্জিন ক্ষমতা সিসি (ঘন সেন্টিমিটার) নামে পরিচিত।অর্থাৎ গাড়ির সিসি অনুযায়ী ট্যাক্স দিতে হবে।
গাড়ির ফিটনেস নবায়ন ফি প্রতি দুবছর অন্তর অন্তর দেওয়ার নিয়ম হলেও গাড়ির ট্যাক্স বাবদ নির্ধারিত ফি প্রতিবছরই দিতে হয়।আগে ফিটনেস নবায়ন করার সময় এ ট্যাক্স নিয়ে নিত। কিন্তু ২০২০-২০২১ অর্থবছর থেকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী গাড়ির ট্যাক্স প্রতিবছর অগ্রিম দিতে হবে। এর কারণ এ বছরের গাড়ির করের হিসাব এ বছরেই আয়করের সাথে সমন্বয় করতে হবে। তাই গাড়ির ট্যাক্স বাবদ আপনাকে প্রতিবছর অগ্রিম কর দিতে হবে।
২০২০ অর্থবছরের পর থেকে সব ধরনের বিলাসবহুল পণ্যে আয়করের পরিমান বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনার হিসেবে ব্যক্তিগত গাড়ির বার্ষিক আয়কর ৫০-৬৭% বাড়ানো হয়েছে।গাড়ির এ অগ্রিম ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে দু বছর ধরে। গাড়ির সিসি অনুযায়ী কোন গাড়ির অগ্রিম কর কত চলুন জেনে নিই।
১/ ১৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ট্যাক্স পূর্বের ১৫০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০০০ টাকা করা হয়েছে।
২/ ১৫০০-২০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ট্যাক্স পূর্বের ৩০০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০০০ টাকা করা হয়েছে।
৩/ ২০০০-৩০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ট্যাক্স ১০০০০০ টাকা করা হয়েছে।
৪/ ৩০০০-৩৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ট্যাক্স ১২৫০০০ টাকা করা হয়েছে।
৫/ ৩৫০০+ সিসি গাড়ির ট্যাক্স ২০০০০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
মোটরসাইকেল ট্যাক্স টোকেন নবায়ন: নিয়মাবলী ও অনলাইন পদ্ধতি ২০২৬
বাংলাদেশে বৈধভাবে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য বিআরটিএ (BRTA) নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন এবং হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেন থাকা বাধ্যতামূলক। রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি স্থায়ী হলেও ট্যাক্স টোকেন নির্দিষ্ট সময় পরপর নবায়ন করতে হয়। বর্তমানে এই প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়ে গেছে এবং অনেক ধাপ আপনি ঘরে বসেই সম্পন্ন করতে পারেন।
বাইকের ট্যাক্স টোকেন কী ও কেন প্রয়োজন?
মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের সময় বিআরটিএ থেকে একটি ট্যাক্স টোকেন সনদ প্রদান করা হয়। এটি প্রমাণ করে যে আপনি আপনার বাহনটির জন্য সরকারকে নির্দিষ্ট হারে কর প্রদান করেছেন। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এই ট্যাক্স টোকেন সাধারণত সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদী হয়ে থাকে। তবে আপনাকে প্রতি ২ বছর অন্তর এটি নবায়ন করতে হয়।
ট্যাক্স টোকেন ফি ও নবায়নের সময়সীমা
মোটরসাইকেলের সিসি (CC) ভেদে রেজিস্ট্রেশন ফি ভিন্ন হলেও, স্বস্তির বিষয় হলো ট্যাক্স টোকেনের ফি সব ধরনের বাইকের জন্যই সমান।
- কিস্তিতে পরিশোধ: প্রতি ২ বছর অন্তর ২৩০০ টাকা করে ট্যাক্স পরিশোধ করা যায়।
- এককালীন পরিশোধ: চাইলে ১০ বছরের ট্যাক্স টোকেন একবারেও পরিশোধ করার সুযোগ রয়েছে।
১০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ‘ট্যাক্স ফ্রি’ টোকেন সংগ্রহের নিয়ম
অনেকেই দ্বিধায় থাকেন যে ১০ বছর ট্যাক্স দেওয়া হয়ে গেলে করণীয় কী। যদি আপনার মোটরসাইকেলের ১০ বছরের সম্পূর্ণ ট্যাক্স পরিশোধ করা হয়ে থাকে, তবে পরবর্তী সময়ে আপনাকে আর বড় অঙ্কের টাকা জমা দিতে হবে না। সেক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
- ব্যাংক ফি: বিআরটিএ অনুমোদিত যেকোনো ব্যাংকে মূল ট্যাক্স টোকেনের আসল কপি ও এক কপি ফটোকপি নিয়ে যান। সেখানে মাত্র ২৩ টাকা জমা দিন।
- স্লিপ সংগ্রহ: টাকা জমা দেওয়ার পর ব্যাংক কর্মকর্তা আপনাকে একটি স্লিপ এবং আসল কপি ফেরত দেবেন।
- বিআরটিএ অফিস: এরপর আপনার বাইকটি যে বিআরটিএ সার্কেলের অধীনে রেজিস্ট্রেশন করা, সেখানকার সহকারী পরিচালকের (AD) কাছে ব্যাংক স্লিপ ও আসল কপি জমা দিতে হবে।
- নতুন টোকেন: সব ঠিক থাকলে আপনাকে একটি নতুন ‘ট্যাক্স ফ্রি’ টোকেন দেওয়া হবে। মনে রাখবেন, এই ফ্রি টোকেনটিও প্রতি ৫ বছর অন্তর একই পদ্ধতিতে (২৩ টাকা ফি দিয়ে) আপডেট বা রিনিউ করতে হবে।
অনলাইনে ট্যাক্স টোকেন নবায়ন (BSP পোর্টাল)
বর্তমানে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল বা BSP (BRTA Service Portal)-এর মাধ্যমে অনলাইনে ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করা যায়। এর ফলে আপনাকে ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না।
- প্রথমে BSP পোর্টালে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন।
- আপনার বাইকের তথ্য দিয়ে বকেয়া ট্যাক্স চেক করুন।
- বিকাশ, নগদ বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করুন।
- পেমেন্ট সফল হলে আপনি ই-ট্যাক্স টোকেন ডাউনলোড করতে পারবেন, যা পরবর্তী সময়ে মূল কপি সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
প্রয়োজনীয় সতর্কতা
- সড়কে ট্রাফিক পুলিশের ঝামেলা এড়াতে সবসময় মূল ট্যাক্স টোকেন সাথে রাখুন।
- মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত এক সপ্তাহ আগেই নবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করুন।
- অনলাইনে পেমেন্ট করার পর প্রাপ্ত মানি রিসিটটি যত্ন করে সংরক্ষণ করুন।
তো যার যেমন সিসির গাড়ি তার তেমন অগ্রিম কর দিতে হবে। সেইসাথে ট্যাক্স টোকেন ফি ৫৮০২ টাকাতো আছেই। গাড়ির ট্যাক্স টোকেনের টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার আগে গাড়ির প্রতিবছরের অগ্রিম কর জমা দিতে হবে। সাথে নতুন নিয়ম অনুযায়ী আগের বছরের রিটার্ন জমার প্রাপ্তি স্বীকারপত্রও দেখাতে হবে।
ব্যক্তিগত গাড়ি থাকাটা এখন বিলাসিতা নয় বরং অনেক ক্ষেত্রে তা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।ফলে অনেকেই টাকা জমিয়ে গাড়ি কেনার চিন্তা ভাবনা করেন।আবার কেউ কেউ লোন নিয়েও গাড়ি কেনেন। তাই গাড়ির ট্যাক্স টোকেন কিভাবে নিতে হয়? কোন গাড়ির কত ট্যাক্স? গাড়ি মালিকের সেসব তথ্যও জানা দরকার।
শখের গাড়ির সকল তথ্য অ্যাপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করতে এবং গাড়ির সুরক্ষায় প্রহরী ব্যবহার করতে পারেন। এটি একটি ভেহিক্যাল ট্র্যাকার সার্ভিস (VTS) ডিভাইস যা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে পাই ল্যাবস বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রহরী – ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেমে রয়েছে অ্যাপের মাধ্যমে ইঞ্জিন লক/আনলক করার সুবিধা, গাড়ির লাইভ ট্র্যাকিং আপডেট দেখা, এবং ট্রাভেল হিস্টোরি চেক করা সহ আরও অনেক সুবিধা বিস্তারিত জানতে দেখুন প্রহরী প্যাকেজ সমূহ।
